বাংলাদেশের বন্যা খবরের শিরোনামের চেয়েও ভয়াবহ: একটি মতামত
বাংলাদেশের বন্যা একটি শোকবার্তার চেয়েও বড় ঘটনা।
ঢাকা/আবু ধাবি, ১২ জুলাই, ২০২৬। রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যখন বাংলাদেশের বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে, আমার মনে হয় না বিদেশের অধিকাংশ পাঠক বাস্তবে কী ঘটছে তার ব্যাপকতা উপলব্ধি করতে পেরেছেন। আমার মতে, এই কূটনৈতিক বিবৃতিটি এই ঘটনার সবচেয়ে ছোট অংশ।
| ২০২৬ সালের ১২ই জুলাই, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রবল বর্ষণের পর একটি জলমগ্ন রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। |
সংখ্যা এখনও বাড়ছে
অন্তত ৪৪ জন মারা গেছেন এবং সাতটি জেলা জুড়ে দশ লক্ষেরও বেশি বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।যার মধ্যে কক্সবাজারে মৃতের সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ, যেখানে ১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীও ছিলেন। আমার মতে, শেষোক্ত বিষয়টি যতটা মনোযোগ পেয়েছে, তার চেয়ে বেশি মনোযোগের দাবি রাখে। বন উজাড় করা পাহাড়ের ঢালে নির্মিত শরণার্থী শিবিরগুলো ভূমিধসে বিধ্বস্ত হয়েছে।এমন একটি জনগোষ্ঠী, যাদের আরেকটি দুর্যোগ মোকাবিলা করার ক্ষমতা প্রায় নেই বললেই চলে।
শুধু বন্যাই নয়, অবকাঠামোও ভেঙে পড়ছে।
আমার মনে হয়, মৌলিক পরিষেবাগুলোর কী হচ্ছে, সেটাই আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। বন্যার পানি হাসপাতালের নিচতলায় প্রবেশ করেছিলযার ফলে সরকার ১১টি জেলা জুড়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে, অন্যদিকে কক্সবাজারগামী রেললাইন স্থগিত রয়েছে।এবং হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়ে গেছে। আমার মতে, বিদেশি সহানুভূতিসূচক বিবৃতিগুলো এই অংশটিকেই এড়িয়ে যেতে চায়: এটি কোনো বিমূর্ত ট্র্যাজেডি নয়, বরং বাস্তব সময়ে চাপের মুখে থাকা একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও পরিবহন ব্যবস্থা।
UAE Expresses Solidarity with Bangladesh and Conveys Condolences over Flood Victims pic.twitter.com/rzjnGaTCp5
— MoFA وزارة الخارجية (@mofauae) July 12, 2026
যেখানে আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকৃতপক্ষে সাহায্য করে
আমার অকপট মতামত হলো, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো উদ্যোগগুলো তখনই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন সেগুলো কোনো বাস্তব পরিণতির পথ খুলে দেয়: যেমন প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের প্রবাহ, চিকিৎসা সহায়তা, অথবা সেই ধরনের দ্বিপাক্ষিক সদিচ্ছা যা... ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করেছেসংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন; দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট অনিবার্যভাবে সেই জনগোষ্ঠীকেও প্রভাবিত করে।
আমি বলব, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের আরও শোকবার্তার প্রয়োজন নেই, বরং পরবর্তী মৌসুম আসার আগেই বিশ্বকে উপলব্ধি করতে হবে যে এই বন্যা মৌসুমটি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
Comments
Post a Comment