বৈশ্বিক অন্ধত্ব: কেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সংকট উপেক্ষিত হচ্ছে
আমার মতে, আজকের বৈশ্বিক মানবাধিকার আলোচনায় এক চরম ভণ্ডামি রয়েছে। যেখানে আন্তর্জাতিক সংবাদ শিরোনামগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ছেয়ে আছে, সেখানে বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে একটি নীরব ও নৃশংস অভিযানকে সম্পূর্ণ নীরবতার সাথে উপেক্ষা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে হিন্দু, আদিবাসী গোষ্ঠী এবং ধর্মনিরপেক্ষ কর্মীরা লক্ষ্যবস্তু করে চালানো সহিংসতার শিকার হয়েছেন, যা বিশ্ব স্বীকার করতে নারাজ।
![]() |
| বাংলাদেশে যুব বিক্ষোভ, ঢাকা, ২০২৪ সালে। |
বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন কেন বাড়ছে?
আমি বিশ্বাস করি যে ২০২৪ সালের 'বর্ষা বিপ্লব' কারও কারও জন্য বিজয় হলেও, এটি চরমপন্থী শক্তিগুলোর পূরণ করার জন্য একটি বিপজ্জনক শূন্যতা রেখে গেছে। প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুসারে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণগণ-সহিংসতা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার মতে, হিন্দুদের বাড়িঘর ও ব্যবসার ওপর হামলাকে ন্যায্যতা দিতে 'ভারতীয় এজেন্ট' তকমাটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা একসময় জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ থাকা একটি সম্প্রদায়কে ৮ শতাংশেরও কম অংশে নামিয়ে আনতে বাধ্য করছে।
People rinse Israel because they are bombing a Muslim country
— Chico #K¡LL_DECO #K¡LL_LAPORTA (@Verstaliban33) March 17, 2026
But nobody says a damn thing when Pakistan or Bangladesh kills Afghans, Balochs, Pashtuns and Hindus because they are muslims...
People here are the biggest Hypocrites I've ever seen https://t.co/zZUHfz64eS
কিভাবেঅন্তর্বর্তী সরকার কি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে?
দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতা বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি নৈতিক কলঙ্ক। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসমালোচকদের কণ্ঠরোধ করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে দীপুচন্দ্র দাসের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের মতো গণপিটুনি বিনা বিচারে চলছে। আমার মতে, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন না থাকলে 'অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযানের' চক্র কেবল আরও ত্বরান্বিত হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সর্বশেষ পরিসংখ্যান কী?বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের (বিএইচবিসিওপি) প্রতিবেদনে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২,০০০-এর বেশি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আমার মতে, এগুলো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এগুলো একটি ধারাবাহিক ঘটনার অংশ। সংখ্যালঘুদের নির্মূল করার পদ্ধতিগত প্রচেষ্টাজনজীবন থেকে।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সংকটের কি কোনো আঞ্চলিক প্রভাব আছে?হ্যাঁ। এই অস্থিতিশীলতা ভারত সীমান্তে একটি শরণার্থী সংকটকে উস্কে দিচ্ছে। আমি মনে করি, এই বিষয়টি উপেক্ষা করলে এর আঞ্চলিক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা সমগ্র দক্ষিণ এশীয় করিডোরকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
এইসব নৃশংসতার বিষয়ে বিশ্বের গণমাধ্যম কেন নীরব থাকে?আমার মতে, এটি একটি ভূ-রাজনৈতিক বয়ানের বিষয়। যখন মুসলমানরা ভুক্তভোগী হয়, বিশ্ব তা দেখে; যখন মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তখন প্রায়শই সেটিকে 'স্থানীয় অস্থিরতা' বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়। এই দ্বৈত নীতি সার্বজনীন মানবাধিকারের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।
ন্যায়বিচারের জন্য কী কী পদক্ষেপ প্রয়োজন?অবিলম্বে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণএবং একটি সংখ্যালঘু অধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। রাজনৈতিক পালাবদলের 'পার্শ্বিক ক্ষতি' হিসেবে এই মৃত্যুগুলোকে গণ্য করা আমাদের অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।.jpg)
Comments
Post a Comment