ইরান সংকট ও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা: কতটা ঝুঁকিতে আমরা?
ইরানে
সম্ভাব্য সামরিক
উত্তেজনা বিশ্ব
জ্বালানি বাজারে
অস্থিরতা তৈরি
করতে
পারে।
বিশেষ
করে
হরমুজ
প্রণালি কেন্দ্রিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশসহ বহু
আমদানিনির্ভর দেশের
জন্য
বড়
উদ্বেগ।
ইরান-ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছেকারণ দেশের চাহিদার ৯০% তেল ও এলএনজি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে [৩৮]। সংঘাত বাড়লে সরবরাহ বন্ধপরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং তীব্র ডলার সংকটে জ্বালানি আমদানিতে বড় বিপর্যয়সহ শিল্প খাতে উৎপাদন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
কতটা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ?
ভৌগোলিক ঝুঁকি: বাংলাদেশ সৌদি আরবকাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর নির্ভরশীল। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বা সংঘাত বাড়লে জ্বালানি সরবরাহকারী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে।
অর্থনৈতিক চাপ: যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও যুদ্ধের বীমা (war-risk insurance) বৃদ্ধি পাবেযা বাংলাদেশের আমদানির খরচ ও ডলার রিজার্ভের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত: এলএনজি ও তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বেযা শিল্প উৎপাদনবিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতকে (RMG) ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
মূল্যস্ফীতি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বেড়ে অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
সরকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বৃদ্ধি এবং বিকল্প উৎসের সন্ধানে কাজ করছেতবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ এবং মজুত সক্ষমতা বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি
স্বস্তির দিক হলো বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত। তবে গ্যাস খাত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় অনুসন্ধান বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
Comments
Post a Comment