রংপুর : মনোনীত হয়েও বৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত ২৯ শিক্ষার্থী
মনোনীত হয়েও প্রাথমিক বৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত রংপুরের গঙ্গাচড়ার ২৯ শিক্ষার্থী। গত তিন বছরে বৃত্তির টাকা না পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে হতাশা ও উদ্বেগ কাজ করছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৩৭ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করে। এরমধ্যে ট্যালেন্টপুল গ্রেডে ৭৬ জন ও সাধারণ গ্রেডে ৬১ জন।
তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। বর্তমান তারা অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। বৃত্তিপ্রাপ্তির তিন বছর পূর্তি হতে আর কয়েকদিন বাকি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত বৃত্তির অর্থ হাতে পায়নি উপজেলার ২৯ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের রয়েছে ৯ জন, গঙ্গাচড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ জন, বড়বিল দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ জন, চেংমারী মাদ্রাইন দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ জন, খয়েলা গঞ্জিপুর স্কুল এন্ড কলেজের ২ জন, হাজী দেলোয়ার হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ জন, খলেয়া খাপরিখাল স্কুল ও কলেজের ৩ জন, আলমবিদিতর উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ জন, গজঘন্টা হাই স্কুল ও কলেজের ২ জন,কচুয়া নোহালী বাগডহরা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩ জন এবং মহিপুর দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১ জন।স্কুল সাপ্লাই
কেন বৃত্তির অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ ব্যাপারে বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট অফিসে ঘুরে কোন সুরাহা পাননি বলে জানিয়েছেন একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।
বড়বিল দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কান্না জড়িত কন্ঠে তনিমা খাতুন জানান, ‘আমি পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েও পাইনি কোন বৃত্তির অর্থ।’
গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাজিম রাহাত বলেন, ‘বৃত্তি পাওয়ার পর থেকে তিন বছর কেটে গেলেও কোনো টাকা পাইনি। এতে খুব কষ্ট লাগে।’
গঙ্গাচড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী সীমার ভাই নাহিদ জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো আশানুরূপ সমাধান পাইনি।’
জানা যায়, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এই সমস্যার সুরাহা না হলে বৃত্তির অর্থ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হবে তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সরবরাহকৃত প্রবেশ পত্রে আলাদাভাবে রয়েছে শিক্ষার্থীর আইডি নম্বর ও রোল নম্বর। তবে আইডি নম্বরের শেষ ৩টি ডিজিটে যুক্ত থাকতে হবে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর। কিন্তু অর্থ থেকে বঞ্চিত বৃত্তি প্রাপ্তদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রবেশ পত্র ও ফলাফল সিটে রোল ঠিক থাকলেও মিল নেই আইডি নম্বরের শেষ ডিজিটে। সেখানে ভুল নম্বর দেয়া। এরফলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বৃত্তি বিভাগের অনলাইন কোডের সাথে মিল না হওয়ায় তারা টাকা পাচ্ছে না।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রংপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চাঁদ বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। এতদিন ধরে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য অর্থ হাতে পাবে।’
এ ব্যাপারে গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, ‘ত্রুটি মুক্ত তথ্য আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করেছি, আশা করা যায় এ বছরে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা তাদের অর্থ পেতে পারে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অফিসিয়ালি জানালে আমি এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, ‘বৃত্তির অর্থ থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
Comments
Post a Comment