দুদকের গণশুনানি দ্বিগুণ, দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি প্রতিরোধেও জোর

দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গত বছরের তুলনায় এবার দ্বিগুণসংখ্যক জেলায় গণশুনানি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। গত বছর ১৪টি জেলায় গণশুনানি হওয়ার কথা থাকলেও ১২টিতে হয়। এ বছর ২৫টি জেলায় গণশুনানি আয়োজনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। দুদকের এই কর্মসূচি অর্থবছর অনুসারে হয়ে থাকে। গত জুলাই থেকে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত ২৫টি জেলাকে গণশুনানির তালিকায় আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে গত ১০ ও ১১ আগস্ট বগুড়া ও জয়পুরহাটে দুটি গণশুনানি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী রবিবার সিরাজগঞ্জ ও সোমবার টাঙ্গাইল জেলায় গণশুনানি আয়োজনের কথা রয়েছে। 
এ ব্যাপারে দুদকের মুখপাত্র ও মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে দুদকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা-উপজেলায় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে দুর্নীতিবিরোধী আলোচনা সভা, সেমিনার, মানববন্ধন, র‌্যালি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতাসহ জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম হয়ে থাকে। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে দুদকের অন্যতম কার্যকর একটি আয়োজন গণশুনানি। কয়েক বছর ধরে প্রতি মাসে এক বা একাধিক জেলায় এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়। সুফল দৃশ্যমান হওয়ায় এবার গণশুনানি কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণসংখ্যক জেলায় কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। 
দুদক সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এক বছরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক মন্ত্রী, সাবেক এমপি, প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমলাসহ ১ হাজার ৭৪৩ জনের বিরুদ্ধে ৪৫২টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় সর্বোচ্চ। তবে গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিরোধ কার্যক্রমের গণশুনানি আয়োজন ছিল নগণ্য। গত ডিসেম্বরে কমিশন পুনর্গঠনের পর প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছর অর্থাৎ গত জুলাই থেকে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত ২৫টি জেলায় গণশুনানির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথমার্ধে বগুড়া ও জয়পুরহাটে গণশুনানি সফল করা হয়েছে। গণশুনানিতে জনসাধারণের সরাসরি উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে জয়পুরহাটে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ৩৩টি অনিয়ম-দুর্নীতিসংক্রান্ত ৬৭টি অভিযোগ এবং বগুড়ায় ৩২টি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিসংক্রান্ত ৯৭টি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা, ৮ সেপ্টেম্বর শেরপুর, ১২ অক্টোবর বরগুনা, ১৩ অক্টোবর ঝালকাঠি, ২৬ অক্টোবর যশোর, ২৭ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা, ৯ নভেম্বর পঞ্চগড়, ১০ নভেম্বর দিনাজপুর, ২৩ নভেম্বর সিলেট, ২৪ নভেম্বর হবিগঞ্জ, ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর, ২১ ডিসেম্বর ভোলা, ২৫ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর, ৮ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ী, ২৬ ফেব্রুয়ারি নাটোর, ৮ মার্চ গাইবান্ধা, ৩১ মার্চ মেহেরপুর, ৫ এপ্রিল মাগুরা, ১৯ এপ্রিল ঢাকা ও ১০ মে রাজশাহী জেলায় গণশুনানির আয়োজন করা হবে। 

গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১৪টি জেলায় গণশুনানির তালিকা করেছিল দুদক। এর মধ্যে ১২ জেলায় গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সব গণশুনানিতে দুদকের পক্ষে দুই কমিশনার ও সচিব উপস্থিত হলেও তৎকালীন দুদক চেয়ারম্যান মঈদউদ্দীন আব্দুল্লাহ কোনোটিতেই উপস্থিত হননি। তবে বর্তমান দুদক চেয়ারম্যান চলতি বছরের দুটি গণশুনানিতেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

Comments

Popular posts from this blog