জনবল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে রংপুরের স্বাস্থ্যখাত, ভোগান্তিতে রোগীরা
তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে রংপুর বিভাগের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতাল। গড়ে জনবল রয়েছে চাহিদার মাত্র ৫০ শতাংশ। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে হতাশা নিয়ে ফিরতে হচ্ছে অসংখ্য সেবা প্রত্যাশীদের।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, কাঙ্ক্ষিত জনবল না থাকায় প্রায়ই হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসা সেবা দিতে। তবে জনবল সংকট সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর রোগীদের নিত্যদিনের ঘটনা।
জেলার ২৩ লাখ মানুষের উন্নত চিকিৎসার একমাত্র ভরসা এই হাসপাতালটি। সেখানে প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন প্রায় ৫ শতাধিক রোগী। তবে চিকিৎসক, নার্স আর সহায়ক কর্মীর ঘাটতিতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই জানান, চিকিৎসক সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত ডাক্তার দেখাতে পারছেন না। আবার নার্সসহ অন্যান্য জনবল কাঠামো না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সেবাও পাচ্ছেন না।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. শহিদুল্লাহ বলেন, জনবল সংকটের চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিক বার পাঠিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। তবে যে জনবল আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
একই চিত্র ঠাকুরগাঁও জেলা সদর হাসপাতালেও। ৫৯ জন চিকিৎসকের বিপরীতে রয়েছেন ৪০ জন। এছাড়া নার্স, সুপারভাইজার এবং তৃতীয় ও ৪র্থ শ্রেণীর পদ সংখ্যা ১৮৫ জনের হলেও শূন্য রয়েছে ৫৭টি। ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না।
অন্যদিকে রংপুর বিভাগের চিকিৎসা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রয়েছে চিকিৎসকসহ অন্যান্য জনবল সংকট । ৬০০ শয্যার এই হাসপাতালকে ১ হাজার বেডে উন্নীত করা হলেও চলছে পুরনো জনবল দিয়ে। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন আড়াই থেকে তিন হাজার রোগী। ফলে জটিল রোগের চিকিৎসা দেয়ার শেষ ভরসার জায়গাতেও চরম হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। একই সঙ্গে বাড়ছে সেবা প্রত্যাশীদের অভিযোগ।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক পদ ২৯৯টি হলেও কর্মরত ২৬৭ জন। শূন্য পদ ৩২টি। ১০২৫ জন নার্সের স্থানে রয়েছেন ১০১৭ জন। এছাড়া তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পদ ১৪৬ জনের আছে ১০০ জন। আর চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ৪৫২ জনের মধ্যে আছে ২৬৪ জন। ১৮৮টি পদই শূন্য।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, বিভাগের চিকিৎসা সেবার গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালটিতে জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে খুবই বেগ পেতে হয়। কারণ প্রতিদিন আড়াই হাজার রোগীর চাপ থাকে। কিন্তু জনবল অনেক কম। তবে জনবল চাহিদা পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তবে সম্প্রতি রংপুর সফরে এসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, জনবল সংকট সমাধানে দ্রুত কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রংপুর ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও বিভাগের ৫৮টি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ ১২১৪টি হলেও কর্মরত রয়েছেন ৬৮৩ জন। আর সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ ৬৫৫ জনের। কর্মরত রয়েছেন ৪৫৬ জন।
Comments
Post a Comment