শীতে ক্যানসার রোগীদের বাড়তি যত্ন কেন দরকার

শীতে ঠান্ডা-কাশির সমস্যায় তো অনেকেই ভোগেন। তবে যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়, সাধারণ জীবাণুর সংক্রমণেই ভোগান্তি বাড়তে পারে তাঁদের। ক্যানসার এমন এক রোগ, যার বিরুদ্ধে লড়াইটা বেশ দীর্ঘই হয়। এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে শীত এলে বাড়তি দুর্ভোগের মুখে পড়তে পারেন একজন ক্যানসার রোগী। সুস্থ মানুষের চেয়ে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভব করতে পারেন তিনি। জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তো থাকেই। সব মিলিয়ে ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক কষ্ট বাড়তে পারে শীত মৌসুমে। তাই সচেতনতার বিকল্প নেই।

খেয়াল করলে দেখবেন, ক্যানসারে অনেক রোগীর ওজন কমে যায়, অর্থাৎ তাপমাত্রা ধরে রাখার জন্য দেহে যে স্বাভাবিক চর্বি থাকা প্রয়োজন, সেটিও থাকে না তাঁদের। তাই অন্যদের চেয়ে বেশি শীত অনুভব করেন তাঁরা। অনেকের রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও কমে যায়। এ রকম অবস্থায়ও শীত বেশি অনুভূত হয়। ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতে কখনো একজনের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা একেবারেই কমে যেতে পারে। তখন বাড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি। জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, সর্দি ছাড়াও হতে পারে নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক রোগ। 

এমন পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে ক্যানসার রোগী ও তাঁর পরিবারের কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।


খাবারদাবারে সতর্কতা

ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবশ্যই টাটকা খাবার খাওয়া উচিত। বাসি খাবারে সহজেই ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক জন্মাতে পারে। এটা ঠিক যে শীতে খাবার সহজে নষ্ট হয় না। কিন্তু এমনটাও ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই যে শীতে বাসি খাবার পুরোপুরি নিরাপদ। রোজ তাজা শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে অবশ্যই। তবে পাতলা খোসাযুক্ত ফল এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।


চাই উষ্ণতা

ক্যানসার রোগীর যাতে ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। খাওয়ার জন্য উষ্ণ পানি ভালো। রান্না করা খাবার খাওয়াতে হবে হালকা গরম অবস্থাতেই। হাতমুখ ধোয়া, অজু, গোসল প্রভৃতির জন্য উষ্ণ পানির ব্যবস্থা রাখুন। পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরা আবশ্যক। একাধিক স্তরের হালকা পোশাক পরা যেতে পারে, যাতে প্রয়োজনে বাইরের স্তরের পোশাক খুলে রাখা যায়। মোজা, হাতমোজা, কানটুপি বা মাফলারের মতো ছোটখাটো অনুষঙ্গের ব্যবস্থাও রাখুন।


সুস্থ থাকতে আরও যা

নিয়মমাফিক মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।


  • অপরিষ্কার হাতে খাওয়া যাবে না। অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক, মুখ স্পর্শ করা যাবেনা। খাবার রান্না ও পরিবেশনের ক্ষেত্রেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন।

  • সম্ভব হলে খানিকটা সময় শরীরচর্চা করতে হবে।

  • ক্যানসারের চিকিৎসা সম্পন্ন হয়ে গেলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।

  • ক্যানসার রোগীর ক্ষেত্রে ঠান্ডা-কাশির মতো ছোটখাটো উপসর্গ অবহেলা করতে নেই। এ রকম ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ আবশ্যক।


Comments

Popular posts from this blog